আমাদের দেশে, বিশেষ করে ঢাকা শহরে নেগেটিভ ব্লাডের ক্ষেত্রে নিজের ডোনার থেকে রক্ত না নিলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ প্রতারক চক্র প্রথমে Red Cells এবং Plasma আলাদা করে ফেলে। এরপর Red Cells-এর সাথে স্যালাইন মিশিয়ে একে পুনরায় Whole Blood-এর মতো বানিয়ে ফেলে। এর ফলে একদিকে ওই ব্যাগ আবারও Whole Blood হিসেবে বিক্রি হয়, অন্যদিকে Plasma-ও উচ্চ মূল্যে বিক্রির সুযোগ থাকে।
স্বাভাবিকভাবে একটি ব্লাড ব্যাগে রক্ত সংগ্রহের পর এর Hematocrit দাঁড়ায় প্রায় ৩৫–৪৫% (গড়ে ~৪০%)। সাধারণত ব্লাড ব্যাগে যে anticoagulant (CPDA-1 ~63 mL) থাকে, তার সাথে ডোনারের রক্ত মিশে গেলে Hematocrit প্রায় ১০–১২% কমে যায়। ফলে ব্যাগে Hematocrit-এর মাত্রা কিছুটা কম হয়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আসলে ব্লাড ব্যাগে Hematocrit আরও কম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেহেতু আমাদের জনগোষ্ঠীর হিমোগ্লোবিন লেভেল অন্য দেশের তুলনায় অনেক সময়ই কম থাকে।
এখন যদি এতে স্যালাইন মিশিয়ে দেওয়া হয় Plasma-এর জায়গায়, তাহলে Hematocrit-এর মাত্রা ২০–২৫% বা আরও কম হয়। এর ফলে ট্রান্সফিউশন-পরবর্তী হিমোগ্লোবিন কাঙ্ক্ষিতভাবে বাড়ে না। বরং বারবার রক্ত দেওয়ার কারণে ভলিউম ওভারলোডের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ব্লাড ব্যাগে Red Cells থাকলে একে সংরক্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিমাণ Plasma প্রয়োজন। Plasma না থাকলে RBC-এর glycolysis/metabolism ঠিক থাকে না। Storage lesion দ্রুত ঘটে, Hemolysis rate বেড়ে যায়, 2,3-DPG লেভেল পড়ে যায়—ফলে Oxygen release capacity কমে যায়। এমন রক্ত ফ্রিজের ভেতরেই সহজে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর পরিবেশ তৈরি করে ফেলতে পারে। এর ফলাফল হতে পারে মারাত্মক Septic Transfusion Reaction।
ক্লিনিশিয়ানদের করণীয়
এক্ষেত্রে ক্লিনিশিয়ান বা যারা রোগীর পাশে কাজ করেন, তাদের জন্য সমস্যা হলো—রক্ত ব্যাগ ব্লাড ব্যাংক থেকে এসেছে, সেটি সঠিক নাকি প্রতারণামূলক তা জানার প্রক্রিয়া নেই। যদি সরকারি নির্দেশ থাকত যে ব্লাড ব্যাগের উপরের বারকোড ব্যবহার করে প্রতিটি তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক, তাহলে প্রতারণার সুযোগ অনেকটাই কমে যেত। যেহেতু এখনও সেই ব্যবস্থা হয়নি, তাই বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হবে।
আমরা বলি থাকি ব্লাড ব্যাগ ফ্রিজ থেকে বের করার পর আধা ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে ব্যাগ রোগীর কাছে পৌঁছাতে যেতেই অনেক সময় ৩০ মিনিট পেরিয়ে যায়। তখন শুধু ক্লিনিক্যাল চেক করেই আমরা ট্রান্সফিউশন শুরু করি।
প্রতারনার সুযোগ থাকায় একটি সহজ পদ্ধতি হতে পারে—ব্যাগ হাতে পাওয়ার পর অন্তত ২০ মিনিট ঝুলিয়ে রাখা।
-
স্বাভাবিক ব্যাগে এ সময়ে লাল রক্তের উপরে হালকা Plasma জমে থাকে।
-
কিন্তু যেসব ব্যাগে Plasma-এর পরিবর্তে স্যালাইন থাকে, সেগুলোতে কয়েক গুণ দ্রুত লাল অংশ নীচে জমে যায় এবং একটির সাথে আরেকটি লেগে থাকে। উপরের অংশ তখন একেবারে পানির মতো স্বচ্ছ স্যালাইন হয়ে যায়।
এ ধরনের রক্ত কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না।
